MD SALIM

জনজীবনের আসল বিষয় বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি- প্রচারে বলবে সিপিআই(এম)

রাজ্য জেলা

CPIM TMC BJP AIKS WEST BENGAL PANCHAYAT ELECTION WEST BENGAL POLITICS 2023 BENGALI NEWS md salim বর্ধিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মহম্মদ সেলিম। ছবিঃ অমিত কর।

অনিন্দ্য হাজরা 

 

১০০ দিনের বকেয়া আদায়ের লড়াইয়ে আমরা তো বলিনি সামিল হবনা। কিন্তু তারজন্য তো রাজ্যকে জানাতে হবে কত বরাদ্দ হয়েছে, কত খরচ হয়েছে, আর বকেয়াই বা কত রয়েছে। রাজ্য সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হত। একই ভাবে দিল্লির সরকার কোভিডের সময়ে পিএম কেয়ার্স ফান্ডে জমা টাকার কোনও হিসেব দেয়না। ইলেক্টোরাল বন্ডের নামে রাজনৈতিক ঘুষ আদায় করছে। এর থেকেই প্রমাণিত, তৃণমূল এবং বিজেপির দর্শন এবং কাজের পদ্ধতি এক।

রবিবার হাওড়ার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এ কথা জানান সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। 

শুক্রবার থেকে হাওড়ায় সিপিআই(এম)’র জেলা কমিটির অফিসে শুরু হয় রাজ্য কমিটির ৩ দিনের বর্ধিত অধিবেশন। রবিবার অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলন করেন সেলিম। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূল দুর্নীতির তন্ত্র বা সিস্টেম চালু করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার স্কুলে ভুয়ো নিয়োগের কাগজ দেখিয়ে বছরের পর বছর মাস্টারি করছে, সরকারের থেকে মাইনে পেয়েছে। কী ভাবে সেটা সম্ভব হল? কেউ কাগজ দেখল না? আসলে এই ব্যবস্থা সমস্ত স্তরে করবে বলে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার নির্বাচিত গভর্নিং বডি তুলে দেওয়া হয়েছে। পাব্লিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’তে এমন লোক বসিয়েছে, যাঁরা চুরি ধরার চেষ্টা করবে না। 

সেলিম এদিন বলেছেন, লোকসভা নির্বাচন যত সামনে আসবে, বিজেপি তত রামমন্দিরকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করবে। তৃণমূলও বলবে আমরা দীঘায় জগন্নাথ মন্দির বানিয়েছি। আমরা চাইছি বেকারদের চাকরির দাবি, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা, যাকে তৃণমূল ধ্বংস করতে চাইছে, সেটা বাঁচানোর দাবি, মূল্যবৃদ্ধি সহ জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকে সামনের সারিতে তুলে আনতে। আমাদের লোকসভার প্রস্তুতি পর্বে এই ইস্যুগুলি নিয়ে জনমত গড়ে তোলা হবে। 

৩ নভেম্বর কোচবিহার থেকে শুরু হয়েছে যুবদের ইনসাফ যাত্রা। ২ হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে সেই পদযাত্রা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডে পৌঁছবে। এদিন ইনসাফ যাত্রার প্রসঙ্গে সেলিম বলেছেন, সাধারণ মানুষের উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইনসাফ যাত্রা এগোচ্ছে। এসি বাস, এসি প্যান্ডেল, এসি তাবু ছাড়াই মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছেন যুবরা। এই যাত্রার রসদ সংগ্রহ করা হয়েছে মানুষের থেকে। ঠিক যেমন ভাবে হাওড়ার এই বর্ধিত অধিবেশন সফল করার রসদও সাধারণ মানুষ, ছোট ব্যবসায়ীরা জুগিয়েছেন। এর জোরেই সিপিআই(এম) নির্বাচনী বন্ডকে অস্বীকার করতে পারে। 

এদিন একটি প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, তৃণমূল এবং সিপিআই(এম) আলাদা প্রতিদ্বন্দিতা করলে ইন্ডিয়া জোট খর্ব হওয়ার প্রশ্নই নেই, কারণ ইন্ডিয়া জোটের নামে কোনও নির্বাচন লড়া হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে তিনি ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা সহ রাজ্যগুলির উদাহরণ তুলে ধরেন। 

নরেন্দ্র মোদী রবিবার ঘোষণা করেছেন, আগামী পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন দেবে বিজেপি সরকার। এই বক্তব্যের সমালোচনা করে সেলিম বলেছেন, প্রথমত নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার পরে এই ধরণের কথা বলা যায়না। নিয়ম ভেঙেছেন প্রধানমন্ত্রী। আসলে নিয়ম ভাঙার জন্যই নিজের পছন্দের লোককে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মাথায় বসিয়েছেন। যাঁতে তিনি সব দেখেও চুপ থাকেন। মমতা ব্যানার্জি যেই অঙ্কে রাজীব সিনহাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, মোদী সরকার এবং মমতা ব্যনার্জি- উভয়েই নির্বাচন কিংবা অন্য কোনও পরিস্থিতিতে চাপে পড়লেই বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা বলে। আমরা বলছি, কেন্দ্র ঘোষণা করুক, যতদিন না সমস্ত মানুষকে দারিদ্রসীমার উপরে তুলে না আনা যাচ্ছে, ততদিন গরীব মানুষের বিনামূল্যে রেশন চালু রাখতে হবে। আঁধার লিঙ্ক ইত্যাদির নামে কাউকে বাদ দেওয়া যাবেনা। 

সেলিম বলেছেন, বিজেপির নেতাদের সাম্প্রতিক সময়ের কথায় প্রমাণিত, শুধু হিন্দু-মুসলমান কিংবা ভারত-পাকিস্তান করলেই বাংলায় জনসমর্থন মিলবে না। তাই রাজ্যবাসীর মন পেতে বামপন্থীদের স্লোগান চুরি করছে বিজেপি। উলটোদিকে বিজেপিকে আক্রমণ করার রসদ তৃণমূল সংগ্রহ করছে গণশক্তি পড়ে। 

মহুয়া মৈত্র বনাম এথিক্স কমিটি ইস্যুতে সেলিম বলেছেন, মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, আদানি গোষ্ঠীর কয়লা কেলেঙ্কারির বিরোধীতা করাতেই তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে। আমরা বলছি এই কয়লা কেলেঙ্কারিতেও কালীঘাটের ডেঁপোর স্বার্থ জড়িত। তাই তৃণমূল সবার আগে মহুয়া’র সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করবে। 

Comments :0

Login to leave a comment