Md Salim

সন্ত্রাসের বিষদাঁত ভাঙতেই মানুষ জাগছেন বললেন সেলিম

রাজ্য জেলা

শঙ্কর ঘোষাল- বর্ধমান

বুথ স্তরে মানুষের ঐক্য গড়ে সন্ত্রাসের বিষ দাঁত ভাঙতে হবে। এরজন্য দরকার বুথস্তরে আরো মজবুত সংগঠন। শুধু একটি সন্দেশখালি নয় রাজ্যের বহু জায়গাতে এমন সন্দেশখালির মতো মুক্তাঞ্চল গড়ে তুলেছে শাসকদল সেই সন্ত্রাসের বিষদাঁত ভাঙতেই মানুষ জাগছেন। বৃহস্পতিবার বর্ধমান সংস্কৃতি প্রেক্ষাগৃহে দুই শহিদ কমরেড প্রদীপ তা ও কমরেড কমল গায়েন’র স্মরণসভায় স্মৃতিচারনা করতে গিয়ে এ কথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, কমিউনিস্টরা স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতের জন্য আর শাসকশ্রেণি এখন দুঃস্বপ্ন দেখছে। রাজ্যে গণতন্ত্র,  কৃষি, অর্থনীতি, অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছিলেন কমরেড প্রদীপ তা, কমল গায়েন’রা। সেই শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো জন্য তাঁদের অসমাপ্ত কাজকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মহম্মদ সেলিম বলেছেন, আগে আমরা বলতাম লাঙ্গল যার জমি তাঁর। এখন তৃণমূল রাজত্বে জোর যার জমি তাঁর। এই জোরের সাম্রাজ্য ভেঙ্গে ফেলতে হবে। রাজ্যের মেহনতি মানুষকে এককাট্টা করতে হবে আমাদের। তাঁরা যে বড় অসহায়। এই সভা থেকে শপথ নিয়ে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের। 
মহম্মদ সেলিম এদিন বলেছেন, বিজেপি’র নতুন কেউ নেই তৃণমূলের দলবদলু নেতাদের মিডিয়া ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখাচ্ছে। গঙ্গার এপার ওপারের মধ্যে যতটা ফারাক আছে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে সেই ফারাকটাও নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তৃণমূলের দলবদলু নেতারা বিজেপি’র নেতা। ওদের দলের কে কোন দলে আছে তা ওরাই বলতে পারবে না। এবার লোকসভা নির্বাচনে লড়াই দ্বিমুখী নয়, ত্রিমুখী হবে। তৃণমূল আর বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি মানুষের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে লাল ঝান্ডার নেতৃত্বে যত রুটি-রুজির আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। সেলিম এদিন বলেছেন, ধর্মকে ব্যবহার করে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক নেতারা জনগনের কাছে মহান সাজতে চায়। ধর্মের সাথে রাজনীতিকে মেশানো রাষ্ট্রের কাজ নয়। ভোট এলেই দুই শাসকদল মানুষের মধ্যে বিভাজনের লক্ষ্যেই এই ধর্মের তাস ব্যবহার করে। 


বৃহস্পতিবার বর্ধমান সংস্কৃতি প্রেক্ষাগৃহে বলছেন মহম্মদ সেলিম।

সেলিম এদিন বলেছেন রাজ্য সরকার অপরাধীদের সরকার। পুলিশ অপরাধীদের পাহারা দিচ্ছে অপরাধ যাতে ঠিক মতো চলে। স্মাগলিং, ডাকাতি, জমি চুরি চলেছে পুলিশের মদতে।  তা না হলে ডিজিপি গেলো সবাই ভাবলেন অপারধীকে গ্রেপ্তার করতে কিন্তু তিনি নাম বললেন না যেই অপরাধ করবে তাকে ধরা হবে তার মানে কি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার? নিরাপদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিবু হাজরার অভিযোগে। শিবু হাজরা নিজে ধর্ষণকারী। আজকে মানুষকে কেন আইন নিজে হাতে তুলে নিতে হবে? রক্ষকই যখন ভক্ষক হয় তাহলে এমনই হয়। শুধু একটা সন্দেশ খালি নয় বিভিন্ন জেলায় কয়েক ডজন সন্দেশখালি আছে। যেখানে তৃণমূল, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে মুক্তাঞ্চল তৈরি করেছে। অপরাধীরা অবাধে লুট চালাচ্ছে সর্বত্র খেলার ধূলার জগতেই যত ক্লাব, মাঠ আছে পিসি ভাইপো সব দখল করে নিয়েছে। আর খেলা হবে নাম করে পঞ্চায়েতের টাকা লুট করেছে। পিসি – ভাইপোর ছবি টাঙ্গিয়ে দিয়ে লুটের রাজত্ব তৈরি করা হয়েছে। ৭৫ শতাংশ কালিঘাটে ২৫ শতাংশ শাহাজাহানদের কাছে এই তত্ব নিয়ে লুট চলছে রাজ্যজুড়ে। তিনি এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন রাতভর লঞ্চে কিসের মিটিং হয়? ফিস্টি হয়েছে? তিনি কি পরামর্শ দিয়েছেন শাহাজাহানের লোকজনদের নিয়ে এসে কিভাবে প্রমান, তথ্য লোপাট করতে হবে? শাহাজানকে সেফ কাস্টডিতে রেখে দেওয়া হয়েছে। যেমন মাওবাদীদের নিজেদের কাছে রেখে দিয়ে মাঝে মধ্যে বলতো স্যারেন্ডার করেছে। শাহাজাহান ও সাঙ্গপাঙ্গদের শেখানো হচ্ছে যদি ধরা পড়ে তাহলে কোর্টে গিয়ে কি বলতে হবে। সন্দেশখালির সাথে নবান্নের যোগাযোগের দায়িত্ব রাজীব কুমার নিয়েছেন যেমন চিটফান্ডের তদন্তের নামে লোপাটের জন্য তাঁকে চীপ সেক্রেটারি করেছিল। এখন শাহাজাহানকে নিয়ে হৈচৈ হচ্ছে কিছুদিন আগে তো রাজীব কুমারকে ইডি-সিবিআই খুঁজছিল কি হলো সেই তদন্তের? বিজেপিকেও বলতে হবে কি হলো সেই কেস টা? নাটক করছে ওরা? সন্দেশখালির মানুষ অভিযোগ করছেন কিন্তু কমিশনগুলো কি করছে? রাজ্য ও কেন্দ্র সব কমিশনই বিজেপি-তৃণমূল দলের লোকদের নিয়ে তৈরি করে দিয়েছে তাই কোনটাই মানুষের কাজে লাগছে না। কমিশনের উপর মানুষের আস্থা উড়ে যাচ্ছে। মমতা চাইলে বা অমিত শাহ চাইলে তবেই ঝাঁপি থেকে কমিশনকে ব্যবহার করা হয়। 
তিনি বলেছেন অসহায় মানুষ আর অসহায় থাকবে না তারা ডান্ডা ধরেছে ডান্ডার মধ্যে লাল ঝান্ডা লাগিয়ে তারপর অধিকার কেড়ে নেবে। আমরা চাইনা মানুষ হাতে আইন তুলে নিক। কেন বুজতে চাইছে না পুলিশ প্রশাসন? কেন অপরাধীকে ধরতে পারছে না ইডি, সিবিআই পুলিশ এক লাইনে দাঁড়িয়ে গেছে। ওরা সীমান্ত এলাকায় এই অপরাধ তত্ত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। কারণ প্রত্যকেটা স্মাগলিং দুই দলের জনের ভাগ আছে। তিনি বলেছেন শাজাহান পুলিশের অতিথিশালায় আছে। কাকুর স্বরের মতো আর যাতে কোন স্বর না পাওয়া যায় সব তথ্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। 
মহম্মদ সেলিম এদিন বলেছেন, আজকে শুধু লাল ঝান্ডার বিপদ নয়, শাসকদল তাঁর নগ্ন চেহারা নিয়ে সারা রাজ্যের মানুষের উপর আক্রমন নামিয়ে এসেছে।
এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন। এছাড়াও দুই শহীদের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মহম্মদ সেলিম, সৈয়দ হোসেন ছাড়াও পার্টি নেতা আভাস রায়চৌধুরী, অঞ্জু কর, অমল হালদার, অচিন্ত্য মল্লিক, অরিন্দম কোঙার প্রমুখ। এছাড়াও শহীদ প্রদীপ তা’র স্ত্রী চিত্রলেখা তা, মেয়ে পৃথা তা, ভাই প্রবীর তা ও তাঁর স্ত্রী মালা দিয়েছেন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শুভপ্রসাদ নন্দীমজুমদার। 
মুর্শিদাবাদের কৃষক আনারুল ইসলাম ও পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে কৃষক শুভকরন সিং পুলিশের আক্রমনে নিহত হন। এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং বিজেপি-তৃণমূল সরকারের পুলিশী আক্রমণের প্রতিবাদে এদিন বিশাল মিছিল হয়েছে বর্ধমানে। বর্ধমান আদালত চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয় সেই মিছিল জিটিরোড ধরে শেষ হয় বর্ধমান স্টেশন চত্বরে। ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী, অঞ্জু কর, পার্টির নেতা অমল হালদার, অচিন্ত্য মল্লিক, পার্টির জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন, প্রবীণ পার্টি নেতা অরিন্দম কোঙার সহ  পার্টির নেতৃত্ব। দেশ ও রাজ্যে কৃষক খেতমজুরদের উপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হবার জন্য বর্ধমান বাসীর কাছে আহ্বান জানানো হয়।

Comments :0

Login to leave a comment